Thursday, December 12, 2019

HERITAGE MEET 2019



Traditional Heritage Group এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হল "Heritage Meet 2019", কলকাতার নন্দন চত্বরের জীবনানন্দ সভাগৃহে কলকাতায় নবীন প্রজন্মের দ্বারা পরিচালিত এই "Heritage Awareness Programme গতকাল অনুষ্ঠিত হয়ে গেল

উপস্থিত ছিলেন শ্রী কমল বন্দ্যোপাধ্যায় (The Indian National Trust for Art and Cultural Heritage- INTACH এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য), শ্রী রঙ্গন দত্ত ( Blogger & Wikipedian), শ্রী তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ( প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ), শ্রী সমরজীৎ ঘোষাল ( বিশিষ্ট মুদ্রা সংরক্ষক), শ্রী আমিনুদ্দিন সেখ (অধ্যাপক- আশুতোষ কলেজ 'ইতিহাসবিভাগ'), শ্রীমতী সোনালী রায় (অধ্যাপিকা- যোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজে 'ইতিহাসবিভাগ') এবং আরও বিশিষ্টজন

অনুষ্ঠান শুরু হয় দুপুর .৩০ নাগাদ বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট অতিথিরা, বনেদীয়ানা সদস্য শ্রীমান মৃন্ময় চক্রবর্তী চন্দন পরিয়ে অতিথিদের বরণ করেন এরপর রোটারিয়ান শুভাশিস্ বসু এবং রোটারিয়ান নীলাদ্রি দত্ত মাননীয় অতিথিদের হাতে সম্মান তুলে দেন উপস্থিত সকল বনেদীয়ানা সদস্য এবং ইতিহাসপ্রেমী সদস্যরা কাল এক অনন্য ইতিহাস আলোচনাসভার সাক্ষী থেকেছিল
Traditional Heritage Group মাননীয় অতিথিদের জন্য বিশেষ কিছু স্মৃতি সম্মানের ব্যবস্থা করেছিল অতিথিদের হাতে সেই সম্মানও তুলে দেওয়া হল, তুলে দিলেন রোটারিয়ান শুভাশিস্ বসু এবং রোটারিয়ান নীলাদ্রি দত্ত

শ্রী কমল বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রদান করা হল "রানী ভবানী স্মৃতি সম্মান ২০১৯"
শ্রী রঙ্গন দত্তকে প্রদান করা হল " দুর্গাচরণ মিত্র স্মৃতি সম্মান ২০১৯"
শ্রী তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রদান করা হল " রাজা মহতাব চাঁদ স্মৃতি সম্মান ২০১৯"
অনুষ্ঠানে দুইজন বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত থাকেতে পারেন নি তাই তাদের হয়ে সম্মানটি নিলেন শ্রীমান্ সুভাষ হালদার এবং শ্রীমান্ অমিত দে
শ্রী নন্দ সিংহ বারকোলা মহাশয়কে প্রদান করা হল " জীবনানন্দ দাশ স্মৃতি সম্মান ২০১৯" যেই সম্মানটি গ্রহণ করলেন শ্রীমান্ সুভাষ হালদার
অধ্যাপক শ্রী দিলিপ কুমার পাল মহাশয়কে প্রদান করা হল " উইলিয়াম শেক্সপীয়ার স্মৃতি সম্মান ২০১৯", যেই সম্মানটি গ্রহণ করেন শ্রীমান্ অমিত দে
অনুষ্ঠানে যোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজের তৃতীয়বর্ষের ছাত্র শ্রীমান্ প্রীতম নস্কর বক্তব্য রাখলেন টালিগঞ্জ বড় রাসবাড়ির ইতিহাস ট্রাডিশনা বিষয়ে, প্রীতমের বক্তব্যে নবীন প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের এই ইতিহাস ঐতিহ্যের প্রতি এক গভীর ভালোবাসা তা প্রমানিত হল গতকালকের বিশেষ অনুষ্ঠানে

বনেদীয়ানা আগামী দিনের কর্মসূচী কিছু দিনের মধ্যেই ঘোষনা করা হবে সবাইকে ধন্যবাদ, যারা অনুষ্ঠানটির সাথে যুক্ত ছিলেন তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ শুভেচ্ছা জানাই বনেদীয়ানা পরিবারের পক্ষথেকে সকল ইতিহাসপ্রেমী মানুষের জন্য রইল আগাম ইংরাজী নতুনবর্ষের শুভেচ্ছা ভালোবাসা ইতিহাসকে ভালোবাসুন, ইতিহাসকে বাঁচানোর চেষ্টা করুন
"History is the unending dialogue between past and present"- E.H.CARR


Friday, November 29, 2019

বড়িশার চণ্ডীপুজোঃ- ঐতিহ্য ও আভিজাত্যে


কলকাতায় চণ্ডীপুজোঃ-
 কলকাতার দুর্গাপুজো আজ বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণের বিষয়বস্তু, ভারতের মানুষ ভারতের বাইরের দর্শনার্থীরাও আসেন কলকাতায় দুর্গাপুজোর সময় তেমনি  বড়িশার মানুষদের সবথেকে আনন্দের উৎসব হল বড়িশার চণ্ডীপুজো প্রতিবছর এই পুজো মেলাকে কেন্দ্র করে বহু ভক্তসমাগম ঘটে আজ বনেদীয়ানা' সেই ইতিহাসই প্রকাশিত হল লিখলেন শুভদীপ, চলুন দেখা যাক সেই পুজোর ইতিহাস

 বড়িশার চণ্ডীপুজোঃ- ঐতিহ্য আভিজাত্যে
 বড়িশার চণ্ডীপুজোর কথা আলোচনা করলে যে পরিবারের কথা বলতেই হয় সেই পরিবার হল সাবর্ণ চৌধুরী পরিবার, বঙ্গদেশে এই পরিবারের নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য বড়িশাগ্রামের তিলোত্তমা এই মহোৎসবের সূচনা করেছিলেন সাবর্ণ বংশের সুসন্তান মহেশচন্দ্র রায় চৌধুরী মহেশচন্দ্র ছিলেন সাবর্ণ বংশের কুলতিলক দক্ষিণবঙ্গের তৎকালীন সমাজপতি প্রবাদপ্রতিম পুরুষ রায় শিবদেব মজুমদার চৌধুরী ওরফে সন্তোষ রায় চৌধুরীর অধঃস্তন চতুর্থ পুরুষ [শিবদেব-রামনাথ-রাধাকান্ত-হরচন্দ্র-মহেশচন্দ্র-হরিশচন্দ্র] মহেশচন্দ্র ১৭৯২ সালে ধুমধামের সাথে চণ্ডীপুজো শুরু করেছিলেন নিজের বাসভবনে অষ্টধাতুর কলসী প্রতিষ্ঠা করে

 মহেশচন্দ্র নিজের বাসভবনে চণ্ডীপুজো শুরু করেছিলেন ভাটপাড়ার পণ্ডিতদের সাথে পরামর্শ করে সারাবছর নিত্য সেবাপুজো হয় এই বাড়ির চণ্ডীমন্দিরে আর বছরে একবার বার্ষিক মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয় এবং আয়োজন হয় বিরাট মেলার শ্রীশ্রীদুর্গাষ্টমীর দুই-মাস পরে অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে বার্ষিক মহোৎসব শুরু হয় অতীতে এই মেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সার্কাসের দল আসত মহেশচন্দ্র রায় চৌধুরী দুর্গাপুজোর পঞ্চমীর দিন মায়ের মঙ্গলঘট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে সেই দিন দেবীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হিসাবে বিশেষ পূজার আয়োজন করা হয় মহেশচন্দ্র রায় চৌধুরীর পুত্র হরিশচন্দ্র রায় চৌধুরীর সময়ে বার্ষিক পুজোর জন্য চণ্ডীমন্দির তৈরি করা হয়
 চণ্ডীপুজোর সময় অষ্টমী নবমী তিথিতে বিশেষ ভোগের আয়োজন করা হয় অষ্টমীর দিন চণ্ডীবাড়ি থেকে চণ্ডীমন্দিরে মায়ের জন্য ভোগ নিয়ে যাওয়া হয় তারপর চণ্ডীমন্দিরে দেবীর ভোগ নিবেদন হয় এই কয়দিন চণ্ডীপুজো মেলাকে কেন্দ্র করে লোকসমাগম চোখে দেখার মতন

**চণ্ডীবাড়ির বংশতালিকা প্রকাশিত হয়েছিল গতবছর চণ্ডীপুজোর সময় এই বছর আমরা সেই চণ্ডীবাড়ির বংশতালিকা তুলে ধরলাম***
চণ্ডী-অষ্টমীঃ১৭ই অগ্রহায়ণ,১৪২৬[ইং ৪ঠা ডিসেম্বর ২০১৯]
চণ্ডী-নবমীঃ১৮ই অগ্রহায়ণ,১৪২৬[ইং ৫ই ডিসেম্বর,২০১৯]
তথ্যসূত্রঃ শুভদীপ রায় চৌধুরী