Friday, July 26, 2019

ঐতিহ্যের বাড়িরপুজোঃ- বড়াল পরিবার(হাওড়া)


ঐতিহ্যের ইতিহাসপর্বঃ

 আজ প্রকাশিত হল হাওড়ার বড়াল বাড়ির দুর্গাপুজোর রীতিনীতি কী ভাবে পুজো হল এই পরিবারে? দেখা যাক সেই ইতিহাস লিপিবদ্ধ করলেন শ্রীমান্ শুভদীপ রায় চৌধুরী

 ঐতিহ্যের বাড়িরপুজোঃ- বড়াল পরিবার(হাওড়া)
হাওড়া অঞ্চলের রাজ বল্লভ সাহা লেনের বড়াল বাড়ির দুর্গাপুজো শুরু হয় পরিবারের এক সদস্যের মাতৃমূর্তি নির্মাণের মধ্য দিয়ে পরিবারের পৈতৃক নিবাস পুরানো হলেও এই বাড়ির পুজো খুব পুরানো তা নয় তবুও হাওড়ার  বাড়ির পুজোর তালিকায় এই বাড়ি একটি স্থান দখল করে আছে

বড়াল পরিবারে পুজো হয় বৈষ্ণব মতানুসারে দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীর দিন বিল্ববৃক্ষে দেবীর বোধন হয় বাড়িতেই স্নান হয় কলাবউ'এর সপ্তমীর দিন এক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল যে গাছটিতে কলাবউ স্থাপনা হয়, সেটিকে সারবছর বাড়িতেই যত্নে রাখা হয় এই পরিবারে সন্ধিপুজোর সময় বাড়ির সধবা মহিলারা ধুনো পোড়ানোর রীতি পালন করে থাকেন সন্ধিপুজোয় অর্থাৎ অষ্টমীর আর নবমীর সন্ধিক্ষণে চালকুমড়ো বলিদান করি হয়

 এছাড়া সন্ধিপুজোতে ১০৮পদ্ম ১০৮টি প্রদীপ প্রজ্জ্বলনেরও প্রথা রয়েছে এই পরিবারে মহানবমীতে নবগ্রহ হোম হয় এই পরিবারে বড়াল বাড়িতে তিনদিনই অর্থাৎ সপ্তমী, মহাষ্টমী এবং মহানবমীতে খিচুড়ি, লুচি, পোলাও, ভাজা, নানান রকমের তরকারি, পায়েস, মিষ্টান্ন ইত্যাদি নিবেদন করা হয় পাথরের পাত্রে দশমীর দিন অপরাজিতা পুজোর পর মায়ের এবার কৈলাশে ফেরার পালা দশমীর দুপুরবেলা বাড়ির আত্মীয়স্বজন পরিচিতজনের আপ্যায়নের পর শুরু হয় দেবীবরণ

বাড়ির মহিলারা দেবীকে বরণ করেন, শুরু হয় সিঁদূরখেলা পর্ব তারপর দেবীকে নিয়ে রওনা হন পরিবারের সদস্যরা গঙ্গায় বিসর্জনপর্বে প্রতিমা নিরঞ্জন করে এসে বাড়ির সকল সদস্য ঠাকুরদালানে উপস্থিত হয়, তারপর প্রবীণ সদস্যের পা ছুঁয়ে এবং মিষ্টিমুখের মাধ্যমে শেষ হয় বছরের শারদীয়া উৎসব বড়াল পরিবারের পৈতৃক বাসস্থান ঠাকুরদালানটি খুবই প্রাচীন তাদের পূর্বপুরুষ হঁরিচরণ বড়াল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেই দালান সারাবছর সদস্যরা নিজের কাজে ব্যস্ত থাকলেও পুজোর সময়, মায়ের আগমন হেতু বড়াল বাড়ির সদস্যরা আনন্দ যজ্ঞে মেতে ওঠেন  প্রাচীন পুজো না হলেও একটা রীতি ঐতিহ্য এবং বাড়ির পুজোর এক বিশেষ নিষ্ঠার ছবি ফুটে ওঠে এই বড়াল বাড়িতে

কৃতজ্ঞতাস্বীকারঃ- শ্রী বরুণ বড়াল মহাশয়
তথ্য লিপিবদ্ধেঃ শ্রীমান্ শুভদীপ রায় চৌধুরী


বনেদীর বনেদীয়ানাঃ- ভবানীপুর নিতাই চন্দ্র নন্দন বাড়ি


ঐতিহ্যের ইতিহাসপর্বঃ
 আজ প্রকাশিত হল দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর অঞ্চলের নিতাই চন্দ্র নন্দন পরিবরের দুর্গাপুজোর ইতিহাস চলুন দেখা যাক ভবানীপুরের সেই বাড়ির পুজোর ইতিহাস

 বনেদীর বনেদীয়ানাঃ- ভবানীপুর নিতাই চন্দ্র নন্দন বাড়ি
 এই পরিবারের পুজোর ইতিহাস বলতে গেলে প্রথম যে কথা বলতে হয়, যে বাড়িতে এই পুজো হয়ে আসছে এবং যে বেদীতে মা অধিষ্ঠিতা হন সেই বেদীর নীচে রয়েছে বিরজীতলার জঙ্গলের ডাকাত পূজিত দেবী দুর্গার ঘট অনুমান করা যায় বহুকাল আগে এই স্থানে বিরজীতলার জঙ্গল ছিল এবং সেখানকার ডাকাত দলের হাতে পুজো পেতেন দেবী দুর্গা ওরফে চণ্ডী লোকমুখে শোনা যায় যে সেই ডাকাতদের ভয়ে কালীঘাটে সকল দর্শনার্থীরা সকাল সকাল পুজো দিয়ে চলে যেতেন নন্দন পরিবারের পুজো শুরু হয় শ্রী নিঁতাই চন্দ্র নন্দনের সময়ে ১৩৭৫বঙ্গাব্দে

স্বর্গীয় নিঁতাই চন্দ্র নন্দনের দুই পুত্র, স্বপন কুমার নন্দন এবং তপন কুমার নন্দন এই দুই পুত্র ছোটো থেকেই মাটি দিয়ে ঠাকুর বানায় তখন সেই বাড়ির এক ব্রাহ্মণ নিঁতাই চন্দ্রকে বলেন এই বাড়িতে পুজো করার কথা সেই বেদীতে নিতাই চন্দ্র প্রথমে রাজী না হওয়ায় ব্রাহ্মণ বলেন, "চাল কলা গামছা তো দিতে পারবে? তাই দাও, আমি পুজো করে দেবো" এই ভাবে পুজো হতে থাকল বেশ কিছু বছর এখন নিতাই চন্দ্র পুজো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলে দেবী স্বয়ং স্বপ্নাদেশে নিতাই চন্দ্র তাঁর স্ত্রী রেখারাণি দেবীকে বলেন পুজো শুরু করার কথা, পুজো যেন বন্ধ না হয়
 ভবানীপুরের নন্দন পরিবারের পুজোয় ঠাকুর বায়না দিয়ে মহাসমারহে পুজো শুরু হয় নন্দন পরিবারের সোনার দোকান, একদিন নিঁতাই চন্দ্র দোকানে কাজ করছেন তখন দেবী এক নারীর রূপ ধরে এসে তাঁকে বলেন "আজ যে মহাষ্ঠমী, আজ মাকে একটি বস্ত্র দিলেন না?" তখন নিতাই চন্দ্র বললেন নিশ্চয় দেবো, বলেই যখন দেখলেন তখন সেই নারীকে আর দেখতে পেলেন না সঙ্গে সঙ্গে তিনি বাড়িতে এসে জিজ্ঞাসা করলেন সেই নারীর সন্ধান পেয়েছেন কী না কেউ কেউ বলতে না পারায় তিনি মাকে মহাষ্ঠমীর দিন বস্ত্র কিনে এনে দিলেন

 ২০০৭ সালে নন্দন পরিবারের পুজো স্থানান্তরিত হয় নতুন গৃহে, দেবীর আদেশ অমান্য করে পুজো শুরু হলে সেই বাড়ির বড় গিন্নী শ্রীমতী অঁনিতা দেবী মারা যান তাই আবার পুরানো বাড়িতেই শুরু হয় পুজো কিন্তু লোকবলের অভাব, বাড়ির সকল সদস্যই প্রায় অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় পুরানো বাড়ির বেদীতে দেবীর আদেশ নিয়ে আবার ২০১১ সালে নতুন বাড়িতে পুজো স্থানান্তরিত করা হয়

 নন্দন বাড়ির পুজো হয় সম্পূর্ণ বৈষ্ণব মতে কোন রকমের বলিদান করা হয় না প্রতিদিন মাকে লুচি, ভাজা, বিভিন্ন রকমের তরকারি, বাড়ির তৈরি মিষ্টান্ন যেমন নারু, নারকেলছাপা, চন্দ্রপুলি, খীড় এবং দই ইত্যাদি নিবেদন কর হয় মহানবমীতে হয় অন্নভোগ সন্ধিপুজোর সময় এই বাড়ির একটি বিশেষত্ব হল মিষ্টির নৈবেদ্য অর্থাৎ মহানৈবেদ্যর সাথে এক বড় রুপোর থালায় তৈরি হয় মিষ্টির নৈবেদ্য একটি নৈবেদ্যে যে পরিমান চাল ব্যবহার করা হয় ঠিক সেই পরিমান এখানে মিহিদানা সীতাভোগ ব্যবহৃত হয় এবং যে পরিমান ফল মিষ্টি দেওয়া হয় সেই সমপরিমান শুধু মিষ্টান্নই ব্যবহৃত হয় এই নৈবেদ্যে
দশমীর দিন নন্দন পরিবারের কুলদেবতা শ্রীঁধর জীউ ঠাকুর ঘরে চলে গেলে শুরু হয় বিসর্জনপর্ব এই পরিবারে কনকাঞ্জলি প্রথা রয়েছে দেবীবরণ শেষে বাড়ির বড় গিন্নী তিনি কনকাঞ্জলি নেন, মায়ের হয়ে বাড়ির পুরুষ সদস্য কনকাঞ্জলি দিয়ে দেন তারপর প্রতিমা বিসর্জনের জন্য রওনা দেন এই ভাবে নিষ্ঠার সাথে আজও পুজো হয়ে আসছে নন্দন পরিবারে
কৃতজ্ঞতাস্বীকারঃ- শ্রী সৌভিক নন্দন
তথ্যসূত্র সংগ্রহেঃ শ্রীমান্ শুভদীপ রায় চৌধুরী


Thursday, July 25, 2019

আভিজাত্যে বনেদীবাড়িঃ- খড়দহের নিত্যানন্দ প্রভু প্রতিষ্ঠিত দুর্গাপুজো


ঐতিহ্যের ইতিহাসপর্বঃ
আজ প্রকাশিত হল খড়দহে নিত্যানন্দ প্রভু প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন সেই দুর্গাপুজোর ইতিহাস লিখলেন বনেদীয়ানা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য শ্রীমান্ শুভদীপ রায় চৌধুরী চলুন দেখা যাক সেই পুজোর ইতিহাস

 'আইলেন প্রভু খড়দহ গ্রামে
পুরন্দর পণ্ডিতের দবালয়ের স্থানে।।"(চৈতন্যচরিতামৃত)
সময় ১৪৫২ শকাব্দের আগে প্রভু নিত্যানন্দ খড়দহে এসে পুরন্দরের দেওয়া ২৬বিঘা জমিতে বসবাস শুরু করলেন আজকে যা "কুঞ্জবাটি" নামে পরিচিত তিনি মানব সমাজকে প্রেমভক্তি রসে উজ্জীবিত করেন আনুমানিক ১৪৫২ শকাব্দে অর্থাৎ ১৫৩০ সালে প্রভু নিত্যানন্দ, শ্রীপাট খড়দহে নিজ বাসভবনে দুর্গাপুজোর আয়োজন করেন সেই হিসাবে এবছর ৪৮৯ বছরে পদার্পন করবে এই ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো
 সময়ের হাত ধরেই নিত্যানন্দ প্রভুর পরিবার প্রসারিত হতে থাকে এবং বিভিন্ন পরিবারে বিভক্ত হয় যেমন- কিশোর পরিবার, বিহারি পরিবার, মাধব পরিবার, লাল পরিবার এই সমস্ত পরিবারের হাত ধরে দুর্গাপুজোর ধারাও চলতে থাকে নিত্যানন্দ প্রভুর পুত্র বীরভদ্র তৎকালীন গৌড়ের নবাব সুলেমান খাঁর কাছ থেকে একটি কষ্টিপাথর আনেন সেই কষ্টিপাথর দিয়ে তিনি শ্যামসুন্দরের মূর্তি তৈরি করান মূর্তি তৈরি করেন নয়ন ভাস্কর সেই মূর্তিই আজ তাঁদের সমস্ত পরিবারের গৃহদেবতা
 এপ্রসঙ্গে বলাবাহুল্য যে একটি কাহিনী প্রচলিত আছে, যা আজও লোকমুখে শোনা যায়
 বীরভদ্র, সুলেমান খাঁর কাছ থেকে যে কষ্টিপাথর আনেন, সেই পাথর থেকে তিনটি মূর্তি তৈরি করা হয় মূর্তি তিনটি যথাক্রমে খড়দহের শ্যামসুন্দর, শ্রীরামপুরের বল্লভজি সাইবোনার নন্দদুলাল কথিত মত অনুযায়ী মাঘি পূর্ণিমার দিন শ্যামের এই তিনরূপ দর্শনে পুণ্যলাভ অবশ্যম্ভাবী
 নিত্যানন্দ প্রভুর সপ্তম পুরুষ মদনমোহন মদনমোহনের চারপুত্র যথাক্রমে- জগমোহন, গৌরমোহন, ভুবনমোহন মথুরামোহন এঁরা আজ বড় বাড়ি, মেজ বাড়ি, সেজ বাড়ি ছোটো বাড়ি বলে পরিচিত
 এই মোহন পরিবারই নিত্যানন্দ প্রভু প্রতিষ্ঠিত মাতৃপূজার অনুরূপে বিশেষ ঘটা করে কাত্যায়নী দুর্গাপুজোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলেছে এত প্রাচীন পুজোর ইতিহাস লিপিবদ্ধ করতে পেরে আমরা ধন্য
 প্রভু নিত্যানন্দের প্রতিষ্ঠিত কাত্যায়নী দুর্গাপজোর বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যা অন্য পুজোর থেকে আলাদা এক চালায় প্রতিষ্ঠিত পুরোপুরি শোলার কারুকার্য খচিত অলংকারে শোভিত দশমহাবিদ্যার ষষ্ঠরূপ কাত্যায়নী এই রূপে দুর্গার দুইপাশে দেবী লক্ষ্মী সরস্বতীর জায়গায় এখানে বিরাজমান দুই সখী জয়া বিজয়া প্রভু নিত্যানন্দ বিশ্বাস করতেন কাত্যায়নীর পুজো করলে গৌরকে পাওয়া যায় আর গৌরের সাথে সাদৃশ্য রাখতে এখানে দুর্গার পাশে তার দুই সখীকে রাখার সিদ্ধান্ত নেন তবে কার্তিক গনেশ অপরিবর্তিত দেবীর বাহন সিংহ এখানে ঘোটক
 এই নিত্যানন্দ প্রভুর সপ্তমপুরুষ মদনমোহনের মেজো ছেলে ভুবনমোহনের বংশধর হল মেজ বাড়ি এই মেজ বাড়ির গৃহদেবতা গোপীনাথ বাড়ির উল্টোদিকেই গোপীনাথ মন্দির উল্টোরথের দিন গোপীনাথ মন্দিরে হয় দেবীর কাঠামোপুজো মেজো বাড়ির পুজোর রীতি অনুযায়ী চণ্ডী কৃষ্ণানবমী তিথিতে কুলদেবতা শ্যামসুন্দরের মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয় সেই দিন থেকে শুরু হয় পুজো কৃষ্ণানবমী থেকে শুক্লা নবমী পর্যন্ত এই ১৫দিন চলে দুর্গাপুজোর অনুষ্ঠান প্রতিপদের দিন শ্যামসুন্দরের মন্দির থেকে চণ্ডী নিয়ে আসা হয় ষষ্ঠীর দিন সন্ধ্যায় বোধন শুরু হওয়ার পর দেবীকে সিংহাসনে তোলা হয়

 সপ্তমীর দিন সকালে বাড়ির সদস্যরা সকলে মিলে কলাবউকে গঙ্গায় শ্যামের ঘাটে নিয়ে যান ফিরে এসে নিত্যানন্দ প্রভুর রীতি মেনে কলাবউকে থান কাপর পড়ানো হয় কথিত আছে, প্রভু নিত্যানন্দ যখন পুজোর আয়োজন করছেন, তখন এক মহিলা তাঁকে একটি থান কাপড় দিয়ে যান প্রভু তখন সেই কাপড়টি কলাবউকে পরিয়ে দেন এবং সধবার চিহ্ন স্বরূপ তিনি সেই থান কাপড়ের ওপর সিঁদূরের রেখা টেনে দেন
এই পরিবারে পুজো হয় সম্পূর্ণ বৈষ্ণব আচারে এই পুজোয় কোন প্রাণ বলিদান করা হয় না অশুভ শক্তিকে দূরে সরিয়ে মায়ের কাছে যাতে কোন বিঘ্ন না আসে তারজন্য মন্ত্রের সাহায্যে মাসকলাই বলি দেওয়ার প্রথা আছে এই সময় পরিবারের সবাই একত্রিত হয়, মায়ের আরাধনা করেন প্রাচীন রীতি মেনেই এই পুজোর সময় মায়ের প্রসাদ সকলের জন্য বরাদ্দ থাকে এছাড়া বাড়ির সকলের জন্য অন্ন, শুক্তো, মুগ ঘন্ট, খিচুড়ি, বেগুনি, ডাল, পোস্ত, চচ্চড়ি, পুষ্পান্ন, ধোকা, ছানা কালিয়া, চাটনি, পরমান্ন, মিষ্ঠান্ন, লাউঘন্ট ইত্যাদি তৈরি হয়
 বিজয়া দশমীর দিন পরিবারের সকলে সিঁদুর খেলার পর সকলে মিলে প্রতিমা নিরঞ্জনের শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন আগে দেবীকে জোড়া নৌকায় তুলে গঙ্গাবক্ষে ঘরিয়ে তারপর বিসর্জন করা হয় বর্তমানে তা হয় না বিসর্জনের পর পরিবারের সকলে শ্যামসুন্দরের মন্দিরে আসেন সেখানের পুরোহিতরা সকলের মাথায় রাধেশ্যামের পরিহিত কৌপিনের টুকরো বেঁধে দেন এই প্রথাকেই প্রভু নিত্যানন্দ মিলনের প্রতীক হিসাবে দেখিয়ে গিয়েছিলেন
এককথায় ঐতিহ্য ধারাবাহিকতায় বজায় চলছে খড়দহের এই প্রাচীন পুজো ইতিহাস যেন কথা বলে
তথ্যসূত্র সংগ্রহেঃ শ্রীমান্ শুভদীপ রায় চৌধুরী
চিত্রঋণঃ- শ্রীমতী নন্দিনী বসাক