Tuesday, July 30, 2019

আভিজাত্যে সোনার দুর্গাবাড়িঃ- কালী দত্ত স্ট্রিট


ঐতিহ্যের ইতিহাসপর্বঃ
 আজ প্রকাশিত হল কালী দত্ত স্ট্রিটের সোনার দুর্গার ইতিহাস লিখলেন বনেদীয়ানার সদস্যা শ্রীমতী দেবযানী বসু চলুন দেখা যাক সেই বাড়ির ইতিহাস


 শরতের সাদা ভেলা ভাসানো নীল আকাশ, মাঠেঘাটে দোলাদোলানো কাশফুল, ঝরে পড়া শিউলিকে সঙ্গে করে মা দুর্গা আসেন মর্ত্যলোকে সঙ্গে নিয়ে আসেন চার পুত্রকন্যাকে পতিদেব শিবও থাকেন সঙ্গে থাকেন চারটে দিন দশমীর বিদায়লগ্নে আমাদের কাঁদিয়ে ফিরে যান শিবালয়ে কিন্তু এমন অনেক পরিবার আছে যাঁদের ঠাকুরদালানে মা অচলা মৃন্ময়ী মূর্তি নয়-সোনার মূর্তিতে তিনি চিরবন্দিনী শোভাবাজারের কাছে কালী দত্ত স্ট্রিটে সোনার দুর্গা বাড়িতেও তেমনই এই নামেই এলাকার মানুষ চেন বাড়িটিকে বাড়ির ভিতর উঠোনে মন্দির এঁদের দোমহলা তিন খিলানের মন্দির মাঝখানে শ্বেত পাথরের সিংহাসনে গাঁথা সোনার ৩ফুট উচ্চতার দেবীমূর্তি স্বর্ণঅঙ্গ থেকে ঠিকরে পড়ছে আলো, যেন জ্যোতির্মণ্ডল ঘিরে রেখেছে মাকে দশহাতে দশপ্রহরণহরিনী মা প্রকৃতই যুদ্ধরতা পায়ের নীচে দলিত অসুর মায়ের চোখে তেজ, কিন্তু তিনি সদাহাস্যময়ী মা এখানে একাকিনী, নেই তাঁর পুত্রকন্যারা কেউই সোনার অঙ্গ আরও দ্যুতিময় সোনার অলংকারে অজস্র সোনার গহনা তার গায়ে মাথার মুকুট, নাকে নথ, গলায় চিক, সীতাহার, কোমরে কোমরবিছে, পায়ে মল পাশেই রয়েছেন পাথরের মহাদেব ভৈরবেশ্বর
 কলকাতার ব্যবসায়ী জগতে নামকরা দত্ত পরিবারের একটি শাখা বসতবাটি গড়ে তোলেন উত্তর কলকাতার কালী দত্ত স্ট্রিটে এই বংশের ধনী পুরুষ রাধামাধব দত্ত বাংলার ১২৯২ সনে মন্দির নির্মাণ করে সোনার দুর্গাপ্রতিমা প্রতিষ্ঠা করেন বেনারসের শিল্পীদের দিয়ে তিনি এই মূর্তি তৈরি করিয়েছিলেন প্রচলন করেছিলেন নিত্যপূজার কয়েক পুরুষ পর বিগত বেশ কিছু বছর ধরে রামলোচন দত্তের স্ত্রী ছবিরানি দত্ত পুজোর দায়ভার সামলে চলেছেন
 দুর্গাপুজো, বাসন্তীপুজো অন্নপূর্ণা পুজো মন্দিরের প্রধান তিনটি বাৎসরিক উৎসব এরমধ্যে আশ্বিনের চারদিনব্যাপী দুর্গাপুজোই সবচেয়ে ধুমধাম করে অনুষ্ঠিত হয় মহালয়া থেকে পঞ্চমী পর্যন্ত হয় মায়ের অঙ্গরাগ এরপর শৃঙ্গার বেশে সাজেন মা যদিও মা এখান চিরঅধিষ্ঠিতা, তবু অকালবোধনের নিয়ম অনুযায়ী বোধন হয় ষষ্ঠীতে বৈষ্ণবমতে বিশুদ্ধ শুদ্ধাচারে পুজো হয় অন্নভোগ দেওয়ার রীতি নেই, পরিবর্তে নৈবেদ্য দেওয়া হয় দশটি বিরাট পিতলের থালায় সাজিয়ে দেওয়া হয় চাল, ডাল, কড়াই, ছোলা, ঘি, মশলা, দই, মিষ্টি, নানা ফল, সবজি ইত্যাদি রাত্রে দেওয়া হয় লুচিভোগ, দই মিষ্টান্ন দশমীতে বিসর্জন নেই এখানে পুরোহিত হোমের টিকা, শান্তিজল দিয়ে শেষ করেন পূজা পরদিন থেকে আবার শুরু হয় নিত্যপূজা বাড়ির পুজোয় বাইরের ঠাটবাট কোনও দিনই তেমন ছিল না কিন্তু লোক, লৌকিকতা ছিল, তা এখনও বেশ বোঝা যায় পুজোর আসরে যোগদান করলে ঐতিহ্যে আজও অটুট এই বাড়ির পুজো
তথ্যসূত্র এবং চিত্রেঃ শ্রীমতী দেবযানী বসু(সাংবাদিক)


Sunday, July 28, 2019

আভিজাত্যে বাকুলিয়া হাউসঃ-


ঐতিহ্যের ইতিহাসপর্বঃ
 আজ প্রকাশিত হল খিদিরপুর বাকুলিয়া হাউসের কন্যারূপিণী মা দুর্গার ইতিহাস লিখলেন বনেদীয়ানার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যা শ্রীমতী দেবযানী বসু মহাশয়া চলুন দেখা যাক সেই পরিবারের ইতিহাস
আভিজাত্যে বাকুলিয়া হাউসঃ-
তিনশ বছরের কিছু আগেও কলকাতা যখন ছিল তিনটি গ্রাম মাত্র তখন উত্তরের সুতানুটিতেই বেশ কিছু বনেদী পরিবার দুর্গাপুজো করতো তাদের কেউ ছিল রাজা কেউ জমিদার কিন্তু দক্ষিণের ডিহি কলকাতা বা গোবিন্দপুর অঞ্চলও পিছিয়ে ছিল না সংখ্যায় হয়ত কম, কিন্তু খিদিরপুর, বড়িশা অঞ্চলেও বাস করত এমন অনেক পুরানো নিষ্ঠাবান অতিথিবৎসল পরিবার যাদের পুজোতেও খুঁজে পাওয়া যায় ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্যের গন্ধ তেমনই এক পুজো হয় খিদিরপুরের বাকুলিয়া হাউসে মুখার্জি পরিবারে এখানে মা আসেন কন্যারূপে মাতৃরূপে নয় মেয়ের আগমনে সাড়া পড়ে যায় বাকুলিয়া হাউসের অন্দরে, বাইরে তবে বাহ্যিক আড়ম্বর নয় নিয়মনিষ্ঠা মেনে পুজো অতিথি আপ্যায়নই পরিবারের প্রধান বৈশিষ্ট্য
 ১৮৫২ সালে পুজোর শুরু বাকুলিয়া হাউসে বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বেশ্বর মুখোপাধ্যায় সেই বছর শারদীয় পুজোর কয়েকদিন আগে সস্ত্রীক গ্রামের বাড়িতে যান এই সময় তাঁর স্ত্রী ছিলেন সন্তানসম্ভবা তাদের আদি গ্রাম ছিল হুগলি জেলার বাকুলিয়া গ্রামে সেখানে তার দাদা কাশীশ্বর মুখোপাধ্যায় ভ্রাতৃবধূর আসন্ন সন্তান প্রসবের কথা জানতে পেরে উৎকণ্ঠীত হয়ে পড়েন যদি অশৌচের কারণে পুজো বন্ধ হয়ে যায়, তাই ভাইকে অপ্রীতিকর কথা শোনান অভিমানে বিশ্বেশ্বরবাবু স্ত্রীকে নিয়ে কলকাতায় ফিরে আসেন এবং তিনদিনের মধ্যে বাড়িতে দুর্গাপুজোর বন্দোবস্ত করে ফেলেন সেই হিসাবে বাকুলিয়া হাউসের পুজো এবছর ১৬৭বছরে পা দিতে চলেছে
পুজোকাহিনী বলার আগে পরিবারের আরও কিছু কথা না বললেই নয় এতবড় একান্নবর্তী পরিবার আজ কলকাতায় বিরল জ্যাঠতুতো খুড়তুতো ভাই, তাদের পরিবার মিলিয়ে প্রায় ৫০জনের মত সদস্য এদের সবচেয়ে আশ্চর্যের কথা এখনও রান্নাঘর ভাগ হয়নি বাড়ির সদস্য, ঠাকুর চাকর মিলিয়ে ১০০জনের পাত পড়ে প্রতিদিন এর ভিত্তি মনে হয় পরিবারের সাবেকিয়ানা বাড়ির কুলদেবতা শ্রীঁধর বানেশ্বর পূর্ণ মর্যাদায় সমাদৃত অনেক মহান ব্যক্তিত্ব যেমন নেতাজী, ডঃবিধানচন্দ্র রায়, প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের পদধূলিতে ধন্য বাড়ি
 জন্মাষ্টমীর পর গেলেই দেখা যাবে ঠাকুরদালানে চিন্ময়ী মা মৃন্ময়ীরূপ পাচ্ছেন জন্মাষ্টমীর দিন মায়ের দক্ষিণ পদের বাঁশটি পুজো করে ঠাকুর গড়া হয় আদিকাল থেকে একই নিয়মে প্রতিমা গড়ছেন বংশানুক্রমিক কুমোরেরা শুধু কুমোরেরা নয়, যারা দেবীর চিরাচরিত ডাকের সাজে, ঝলমলে গহনা গাঁটিতে নয়নভিরাম রূপ দেবেন তারাও আসছেন কয়েক পুরুষ ধরে একই ভঙ্গিমাতে গড়া হয় মূর্তি দেবীর ডান পা সিংহের পিঠে বাম পা অসুরের কাঁধে সিংহটি কিন্তু বৈষ্ণব রীতির সঙ্গে সাযুজ্য রেখে ঘোড়ামুখী সিংহ অদ্ভুত ব্যাপার, দুর্গার বাহন সিংহ এবং কার্তিকের বাহন ময়ূর ছাড়া বাকি কারোর বাহন নেই আরও পার্থক্য আছে অন্য পুজোর সাথে এদের গনেশ পরেন নীলাম্বর ধুতি, কার্তিক সাদা কোঁচানো ধুতি
পুজো পদ্ধতিও কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন ষষ্ঠীতে বোধন হয় মাকে খাওয়ানোর ব্যাপারে মুখোপাধ্যায় পরিবার কোন ত্রুটি রাখেন না বছরে একবার কন্যা আসছেন, তার রসনা তৃপ্তির জন্য আবদারের খাবার তৈরির জন্য বাড়ির মেয়েরা, বউরা এমনক ছোটো সদস্যাটিও সারক্ষণ তৎপর চারদিনে বিশাল আয়োজন রান্নার প্রতিদিন দ্বিপ্রহরে দুবার করে ভোগ হয়, একটি খিচুড়ি ভোগ, অন্যটি সাদা ভোগ রাত্রে থাকে লুচি, ভাজা, মিষ্টির শীতল ভোগ প্রত্যহ তিনরকম খিচুড়ি, ভাজা, শুক্তো, কলার বড়া, ঘিভাত, তেঁতুলের চাটনি থাকেই এছাড়া তিনদিনে আলাদা পদে সাজানো হয় ভোগ যেমন সপ্তমীতে দেওয়া হয় লাউঘন্ট, বাঁধাকপির ডালনি, অড়হর ডাল মহাষ্টমীতে মোচারঘন্ট, মানকচুর ডালনা, ছোলার ডাল, আমসত্ত্বর চাটনি মহানবমীতে থাকে কচুরশাক, কড়াই ডাল, থোড় ভাজা, চালতার অম্বল এর সঙ্গে থাকে বাড়িতে ভিয়েনে তৈরি নানান রকমের মিষ্টি দশমীর সকাল সকলের বিষাদ ভরা মন কন্যার বিদায়ের কাল যে আসন্ন এখানে মাকে দশমীতে পান্তাভোগ দিয়ে বিদায় জানানো হয় পান্তার সাথে থাকে কচুরশাক, কড়াই ডাল, ভাজা, বেগুনী, চালকুমড়োর তরকারি, চালতার অম্বল, পায়েস কেন পান্তাভোগ হয় তার পেছনে রয়েছে দুরকম কারণ একটি হল তিনদিনের এলাহি খাওয়া দাওয়ার পর অতদূরের পথে যাত্রা করবেন মা তাই শরীর ঠাণ্ডা রাখতে পান্তা আর হালকা খাবার খেয়ে যাত্রা অন্য কারণটি হল কন্যাকে শ্বশুরগৃহে জিজ্ঞাসা পান্তার বিবরণই দেবেন তাহলে কারো চোখ টাটাবে না কন্যার প্রতি পিতৃগৃহের স্নেহমায়ার এমন আদর্শ উদাহরণ সত্যই আলাদা করেছে বাকুলিয়া হাউসকে অন্যরকম প্রথা আরও আছে নবমীর সন্ধ্যায় আরতি করেন পূজারি নয়, বাড়িরই কোন সদস্য দশমীর দিনও পুরোহিতের সাথে মন্ত্রোচ্চারণে বসেন বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠরা কাঁধে করে প্রতিমা ভাসান যায় গঙ্গায় সন্ধ্যার আগেই এখানেই শেষ নয় দশমীর পরে মঙ্গল বা শনিবারে রক্ষাকালী পুজো দিয়ে শেষ হয় বাড়ির বাৎসরিক শারদীয়া উৎসব
তথ্যসূত্রঃ শ্রীমতী দেবযানী বসু(সাংবাদিক)


Saturday, July 27, 2019

আভিজাত্যে দত্তবাড়িঃ- শিবদুর্গাপূজা


ঐতিহ্যের ইতিহাসপর্বঃ
 আজ প্রকাশিত হল দ্বারিকানাথ দত্তের শিবদুর্গাপুজোর ইতিহাস লিখলেন বনেদীয়ানা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যা শ্রীমতী দেবযানী বসু মহাশয়া চলুন দেখা যাক সেই পুজোর ইতিহাস

আভিজাত্যে দত্তবাড়িঃ- শিবদুর্গাপূজা
 আনুমানিক ১১৫০বছর আগে ভারতের ধর্মক্ষেত্রে প্লাবন ঘটেছিল বৌদ্ধধর্মের পাল বংশের শাসনকালেও বাংলাদেশে বৌদ্ধধর্ম প্রতিষ্ঠিত হয় এই সময় অধুনা বাংলাদেশের সুবর্ণগ্রাম অঞ্চলে সুবর্ণবণিকদের খ্যাতি সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়েছিল পাল পরবর্তী সেন যুগে বল্লাল সেন ব্রাহ্মণ্যধর্মকে প্রাধান্য দিতে থাকায় বৌদ্ধধর্মের প্রভাব অনেকটাই ক্ষুণ্য হয়ে পুনরায় হিন্দু দেবদেবীর আরাধনা হতে থাকে এই সময় কিছু সুবর্ণবণিক্পরিবার সুবর্ণগ্রাম ত্যাগ করে বর্ধমানের কাছে কর্জনা নগরীতে এসে বাস করতে থাকেন এদের মধ্যে ছিলেন শূলপাণি দত্ত তাঁর পরিবার এই বংশেরই কৃতী পুরুষ দ্বারিকানাথ দত্ত সততা নিষ্ঠা দিয়ে বিশাল জমিদারির পত্তন করেন হয়ে ওঠেন শহরে একডাকে চেনা "ধনকুবের" ঠনঠনিয়ার কালিমন্দিরের উল্টোদিকেই তিনি নির্মাণ করেন বিশাল অট্টালিকা বেশ কয়েক মহিলা ভবন, মাঝে বিশাল অঙ্গন, চকমেলানো শ্বেতপাথরের বহু খিলানের ঠাকুরদালান ছোটোবেলা থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল নিজ বাড়ির দালানে আবাহন করবেন মা দুর্গাকে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর বৈষ্ণবমনোভাবাপন্ন হয়েও দ্বারিকানাথের মন শক্তিপুজো করার জন্য উদ্বেল হয়ে ওঠে কিন্তু তার বৈষ্ণবমন মহাশক্তির অস্ত্রধারণী সিংহবাহিনী, যুদ্ধরতা রূপ মেনে নেয়নি ঐশী শক্তির বিগ্রহ নয়, মায়ের কোমল রূপই ছিল তার কাঙ্ক্ষিত একদিন রাত্রে তিনি স্বপ্ন দেখেন মায়ের নয়নভুলানো এক রূপ-শিবের কোলে হাস্যরতা মা দুর্গা প্রকৃতপক্ষে বঙ্গজননীর অঙ্গে শরতের প্রশান্ত রূপ, শিউলির সুগন্ধ আর মাঠে কচি ধানের হিল্লোলকে তিনি ধরতে চেয়েছেন তাঁর মূর্তিতে সেই শুরু ১৮৫৫ সালে দ্বারিকানাথ বিশাল জাঁকজমক করে পুজো শুরু করেন তাঁর বাড়িতে বছর ১৬৪ বছরে পদার্পন করতে চলেছে ঐতিহ্যমণ্ডিত এই পুজো

 দত্তবাড়ির পুজোয় কিছু নিজেস্ব বৈশিষ্ঠ্য আছে সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল শিবদুর্গা মূর্তি এক চালচিত্রের অনিন্দ্যসুন্দর প্রতিমা দেবাদিদেব শিব ষাঁড়ের ওপর বসে আছেন তার বাম পায়ের ওপর দেবী অধিষ্ঠিতা দেবীর ডান পা দোদুল্যমান, বাম পা ডান উরুর ওপর রক্ষিত দুপাশে থাকেন তার পুত্রকন্যারা এখানে তিনি বাংলার ঘরের মেয়ে, বৎসরান্তে একবার পিতৃগৃহে আসা সপরিবার বাঙালি বধূ প্রতিটি মূর্তি সোনারুপোর অলংকারে সাজানো মাথায় সোনার মুকুট, হাতে চাঁদমালা, শিবের সোনার ডমরু অর্ধচন্দ্র ইত্যাদি
 দত্তবাড়ির শিবদুর্গা পুজো প্রকৃতপক্ষে দশদিনের মহালয়ার দিন থেকে শুরু হয় নানা আচার অনুষ্ঠান প্রতিপদে বোধন, মহাষ্টমীর সন্ধ্যায় কল্পারম্ভ সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ বৈষ্ণবাচারে পুজো এগিয়ে চলে শাক্তমতে দেবী দুর্গা এখানে দ্বিভূজা শৈবমত মেনে তিনি শিবের কোলে আসীনা পুজো হয় শাস্ত্রীয় বৈষ্ণব মন্ত্রে হিন্দুধর্মের মূল তিনটি শাখা- শাক্ত, শৈব বৈষ্ণব তিনটি বিপরীতমুখী ধারার অপরূপ সমন্বয় মহাষ্টমীর দিন ধুনোপোড়া অনুষ্ঠান এখানে কুমারী সধবা পুজো হয় নবমীতে দশমীতে কাঁধে করে অগণিত মানুষের সুশৃঙ্খল, ভাব-গম্ভীর শোভাযাত্রা সহকারে শিবদুর্গা মূর্তি নিরঞ্জিত হয় গঙ্গায়
 ঠনঠনিয়ার দত্তবাড়ির পুজো শুরু হওয়ার সময় থেকেই কলকাতার মানুষের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এটি শুধু পুজোর শুদ্ধাচারের কথা নয়, পুজো উপলক্ষে বাড়ির নানা অনুষ্ঠানের কথাও মানুষের মুখে মুখে ফিরত বিখ্যাত পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে জানা যায়, দ্বারিকানাথের গৃহে দুর্গাপুজোয় সাহেব মেমরা নিমন্ত্রিত হয়ে আসতেন বসত বাঈনাচের আসর, থাকত ঢালাও খাদ্য পানীয়ের আয়োজন দ্বারিকানাথের সময়কার জলুস আজ ম্লান, তবে বনেদিয়ানা এখনও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছর পুজোর সর্বাঙ্গে
তথ্যসূত্র চিত্রেঃ- শ্রীমতী দেবযানী বসু(সাংবাদিক)